বাসবো ভালো
একশোয়েরো অধিক বছর
কথা দিলাম।
পাখির মতো
মুক্ত স্বাধীন
ফুলের মতো
রঙে রঙিন
ঝড়ের মতো
ওলট পালট
নদীর মতো
দু-কূল ভাসা
বাসবো ভালো
কথা দিলাম।
দূর আকাশের
নীলের মতো
বিস্তারিত সবুজ ঘাসের
শয্যা যেমন
তেমন করে বাসবো ভালো
তোমায় আমি
কথা দিলাম।
বাসবো ভালো
একশোয়েরো অধিক বছর
কথা দিলাম।
পাখির মতো
মুক্ত স্বাধীন
ফুলের মতো
রঙে রঙিন
ঝড়ের মতো
ওলট পালট
নদীর মতো
দু-কূল ভাসা
বাসবো ভালো
কথা দিলাম।
দূর আকাশের
নীলের মতো
বিস্তারিত সবুজ ঘাসের
শয্যা যেমন
তেমন করে বাসবো ভালো
তোমায় আমি
কথা দিলাম।
মাংস ও আধখানা চাঁদের কাবাব
আকাশ মোড়ানো গ্লাসে নক্ষত্র ময়ুরের নাচ
আর কিছু সেতারের শ্রাগ
তার কতটুকু আমার
ঠিক কতটুকু পান করে তবে
হারাবো আমি শরত সন্ধ্যার ভান
ঘন অন্ধকার শ্রাবনের বন্ধ্যা দুপুরের সাথে যেতে
আমি দেখেছি হে ভ্রম তোমাকে
যেতে যেতে তুমি কোথায় হরিয়ে গেলে
আমি বিকেল সন্ধ্যা রাত
রাত তামাদি করে অঝোর বৃষ্টির ভোরে
আকাশ থেকে পেরে এনেছি মেঘরঙ
আমি খুঁজেছি তোমাকে
নিজেকে দুভাগ করে যৌথ জন্মন্ধ চোখে
মেঘের দুরন্ত ঘোড়ায় চেপে বিষুব রেখার দুইপাশে
শ্রাবণের আকাশ নেমে আসে মগজের কোষে
প্রকোষ্টে লম্পট চিত্রের ভ্রম
কখনো ল্যাম্পপোস্ট
কখনোবা শিংওলা হাতি
কিংবা মুন্ডহীন মোরগের যতি
বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার পেছনে পিছু নিয়ে
আমি পাইনি খুঁজে হে ভ্রম তোমাকে
তোমাদের শহরে ট্রেন থেকে নেমে
করেছি নদীপাঠ, মৌনতার ঘাটে জলের স্মরণ
আরো বেশী স্ফীত হয়ে গেছে এই শহর
শহরের মজ্জা ও মেদ
মোড়ে মোড়ে বেড়েছে প্রসাধিত বিলবোর্ড
ভ্রমের বিভেদ
পুরোনো সড়কগুলো সব নতুন পাথরে বাঁধা-পাষাণ
আমি তার পাইনা খুঁজে ধুলাপথ
পাত্রপ্রত্ন লুন্ঠিত দুপুর ও রাত
বস্তিতে জীবনের অন্য অনুবাদ আমিও খুঁজেছি একদিন
হেঁটে হেঁটে পার করে পোড়ামাংস-লালনীল বিপনী বিলাস
বৈঠকি উপমার ক্ষোভ, ভাষার বিক্ষোভ
আমার আর হলোনা পাওয়া আত্মমগ্ন আমার শহর
যদি তুমি যেতে চাও তবে যাও
যতটুকু পথ পাড় হলে পরে
তুমি ফেরাবে আষাঢ় সন্ধ্যার চোখ
আমি তার চেয়ে বেশী দীর্ঘকাল পোড়াবো আমার শ্লীলতা
অভ্রনীল মুগ্ধতার দীঘল নদীর ক্ষয়ে
নীলপাথর সৌধের আমার কবর
আশা করি এর চেয়ে আরো বেশী সুখে তুমি মুড়ে থাকবে
অমন চন্দ্রময় কপালে এঁকে নীল নক্ষত্রের টিপ
নগরে নগরে বাড়াবে তোমার বিদুষী গন্ধের সুহৃদ
তোমার নুপুরের ঝড়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাবে পুরুষপ্রাসাদ
ততদিনে আমি না পুরুষ, না নারী, না ক্লীব, শুধুই মানুষ
বৃস্টি বুঝি আজ সবদাগ ধুয়ে মুছে দেবে
সব বিবাদ আর পুরনো কলহ
আকাশ ভাঙ্গা এই বৃষ্টির পরে
থিতুবে দ্রব্যমুল্যের আগুন
বেকারেরা চাকরী পাবে
থাকবে না ট্রাফিক জ্যাম এবং
হাসপাতাল থেকে রোগীরা
হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে যাবে
বৃষ্টি ও বৃষ্টি তুই কি কাঁদতে পারিস....
অন্য অনেক কিছুর মতো বৃষ্টিতো এখন আমার পর, দূরের কেউ। যদিও বৃষ্টি এখনো আমাকে ভুলে যায়নি। বৃষ্টি এখনো আমাকে ডাকে, হাতছানি দেয়। গান শোনায়। নৃত্যের মুদ্রা তুলে ঢাকার পাষাণ পাথরে বাঁধা আমার মন গলাতে চেষ্টা করে। আমি যতই গা বাঁচিয়ে চলি না কেন, মাঝে মধ্যে দুষ্টুমি করে আমাকে ভিজিয়ে দেয়। বৃষ্টির ডাকে আমারো সাড়া দিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে অনেক আগের মতো হারিয়ে যেতে। কিন্তু এই নাগরিক জীবনের যন্ত্রণা মানিব্যাগ আর মোবাইল বাঁচাতে গিয়ে তা আর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি এত কাছ থেকে আমাকে ডাকে কিন্তু আমি মুখ ফিরিয়ে রাখি- এ কষ্ট আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। কিশোর বেলায় পড়া একটা কবিতার লাইন 'বৃষ্টি আমার জন্মাবধি দুঃখগুলো মুছে নাও'- এখনো বৃষ্টি এলেই আমার অন্তরে অনুরণিত হয়। এক সময় নিয়মিত বৃষ্টিকে দিয়ে দুঃখ ধোয়াতাম। তখন এখনকার মতো ছাতা পোষতাম না। কখনো তা থৈ সুরমা এপার-ওপার করে, কখনো নির্জন টিলার বুক চিড়ে যাওয়া মেঠোপথের গভীরে আমি আর বৃষ্টি, বৃষ্টি আর আমি অনুভূতি বিনিময় করতাম। বৃষ্টি আমাকে স্থিরতা দিত, মুগ্ধতা দিত। বৃষ্টির সাথে নৌকায় হাওর মন্থনের কিছু টুকরো স্মৃতি মাঝে মধ্যে আমাকে নস্টালজিক করে তোলে। বৃষ্টি আমাকে কী না দিয়েছে আর কী না দিতে পারতো!
একটা সময় ছিল, যখন বৃষ্টির কান্নাও আমি শুনতাম। সে কি অঝোর অবোধ কান্না। অবিরাম তিনদিন চারদিন। থামাথামি ছিল না মুহূর্তের জন্যো। বুকের ভার শূন্য করে তবেই থামতো। এখন আর বৃষ্টির কান্না শুনিনা। বৃষ্টি আসলে চেষ্টা করি- কান পেতে শুনতে। জানি না বৃষ্টিও কি ইদানিং মানুষের মতো আবেগশূন্য হয়ে গেছে কিনা।
বৃষ্টি বিষয়ক নানান স্মৃতি, অনেক অপ্রাপ্তির মধ্যে একটা দৃশ্য আমাকে খুবই আপ্লুত করে, উদ্দীপ্ত করে তা হলো বৃষ্টির স্পর্শে নারীদের ময়ূর হয়ে যাওয়া। নাগরিক ব্যস্ততার গালে চড় কষিয়ে হঠাৎ হঠাৎ ঝমঝম করে বৃষ্টি যদি চলেই আসে- নারীরা মানে কিশোরী, তরুনী এমনকি প্রৌঢ়রা, বিশেষ করে যারা চলার পথে রিকশায় থাকে তারা রিকশার হুড খুলে দিয়ে ময়ূরের মতো পাখা মেলে দেয়। দৃশ্যটি বড়ই মনোহর, স্বগীর্য় আর বোধ জাগানিয়া।
বৃষ্টির কতরূপ যে একজীবনে দেখা হয়ে গেলো! ভরা বষার্য় চিম্বুক পাহাড়ে বৃষ্টির একরকম রূপ। আবার সুনামগঞ্জের হাওরে অন্যরকম। ঢাকার বৃষ্টি একেক জায়গায় একেক রকমের। মতিঝিলের ট্রাফিক জ্যামের বৃষ্টি আর ধানমণ্ডি লেকের বৃষ্টির তফাৎ গদ্য কবিতা আর চতুর্দশপদীর মতো। তবে আমার এখনো দেখা হয়নি শিলং আর চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির সৃষ্টিছাড়া উল্লাস।
বৃষ্টিই পারে মুছে দিতে পাড়ায় পাড়ায় কবর খননের উৎসব আর আমাদের মেরুদণ্ডের পুরনো জখম।
রমনার সামনে দিয়ে যেতে আসতে মাঝে মধ্যে ভাবি একদিন তুমুল বৃষ্টিতে রমনায় বৃষ্টি উৎসব করবো। বন্ধুদের বলবো মোবাইল মানিব্যাগ রেখে আসতে। রমনার সুবজে লুটোপুটি খেয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো। পুরনো সখ্যতা ঝালাই করে নেবো। সীসা আর কার্বনে ক্লান্ত, ন্যুব্জ আমি আবারো আমার আমি হয়ে উঠবো।
http://www.thebookseller.com/tags-bookseller/ahmedur-rashid-chowdhury